Top Bangla Golpo Made for Each Other Part 3

পুষ্পিতা চেঞ্জ করে আমার সামনে দাড়ালো।ভেজা চুলে ওকে বেশ অন্যরকম লাগছে।ওকে এই অবস্থায় বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠলো।বাইরে আবারো সজোরে বৃষ্টি আরম্ভ হয়েছে।আশ্চর্যের বিষয় হলো কারেন্ট এখনো যায়নি।আমি নিজেকে সামলে নিয়ে ওকে বললাম-

 

"দাঁড়িয়ে কেন আছো? বসো.... 

 

পুষ্পিতা আমার পাশে বসতে, বসতে বললো

 

"প্রণব আসলে…

 

"বলো..... 

 

"তোমাকে অনেক বার ফোনে ট্রাই করেছি।তোমাকে ফোনে পাচ্ছিলাম না।আমি কিছুদিন তোমার এইখানে থাকলে তোমার কোন সমস্যা হবে?

 

"না আমার আবার কি সমস্যা হবে।এইখানে কয়েকটা রুম ফাকাই থাকে।তুমি যেকোনো একটাতে থাকতে পারো।

 

"আসলে আমি মামার বাসা থেকে চলে এসেছি। যতদিন না কোন চাকুরী পাচ্ছি ততদিন তোমার বাসায়…

 

"হুম বুঝলাম।কিন্তু হঠাৎ বাসা কেন ছাড়তে হলো আপনাকে ম্যাডাম?

 

"আসলে মামা বিয়ে ঠিক করেছে।আমাদের কয়টা বছর দেখলো কি না দেখলো আমার লাইফের ডিসিশনস নিতে শুরু করে দিলো।তাও আমাকে না জানিয়েই… আর আমিও চেনা নাই জানা নাই ওরকম ছেলেকে কিভাবে বিয়ে করবো?আমার পক্ষে এটা সম্ভব না।

 

"আচ্ছা, আচ্ছা বুঝলাম........ 

 

এমন সময় কারেন্ট চলে গেলো..... রাত হয়ে গেছে

 

বাসায় ক্যান্ডেল ও নেই।আর ফোনের ব্যাটারিও ডেড........বাইরে তো বৃষ্টি হচ্ছে।এখন কি করবো?পুস্পিতা আমার শার্টের হাতাটা শক্ত করে ধরলো।আবারো আমার বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠলো।বুঝলাম ওর খুব ভয় করছে।আমি ওকে বললাম-

 

"ভয় পেয়ো না।কারেন্ট একটু পরেই চলে আসবে।

 

"হুম…

 

কিছুক্ষণ পরে কারেন্ট আসলো।আমি পুষ্পিতা কে ওর রুমে দিয়ে আসলাম।রাতে ঘুম থেকে উঠেছিলাম একবার দেখলাম ওর রুমের লাইটটা জ্বলছে।মনে হয় লাইট না জ্বালিয়ে ঘুমাইতে পারেনা বা অন্য কোন কাজ করছে।

 

পরের দিন দুপুর বেলা টেস্ট ম্যাচ দেখছিলাম।দরজা খোলাই ছিলো।ভাবি আসলো হাতে প্লেট দিয়ে ঢেঁকে আমার জন্য কিছু একটা এনেছে।ভালো কিছু রান্না করলেই আমাকে বাসায় ডাকে নয়তো বাসায় এসে দিয়ে যায়।আমি কিছু বলার আগেই ভাবি বললো-

 

"কি ছোট সাহেব কি খবর??ভাবিকে ভুলে গেছো নাকি?দেখা করো না বেশ কয়েকদিন হলো।

 

"আরে কি যে বলো। তোমাকে ভুললে চলে?আজকে কি রান্না করেছো??

 

"ভূনা খিচুড়ি.... 

 

"বাহ বেশ জমবে তাহলে দুপুরের খাবারটা।

 

"কি ব্যাপার বলো তো। তোমার বাসার সব কিছু এমন গুছানো লাগছে।

 

ব্যাপার আমিও বুঝতেছিনা ভাবি।

 

এমন সময় পুষ্পিতা ওর রুম থেকে বের হয়ে আসলো।ভাবি পুস্পিতাকে দেখে আমার দিকে তাকিয়ে বললো-

 

" বিয়ে করেছো একবার জানানোর প্রয়োজন মনে করলেনা? তোমার ভাইয়াকে না হোক আমাকে তো একবার জানাইতে পারতে।

 

"আরে ছিঃ, ছিঃ ভাবী তোমাদের না জানিয়ে আমি কিভাবে বিয়ে করবো বলো?

 

"তাহলে মেয়েটা কে??

 

কথাটা শোনার পরে আমি পুষ্পিতার দিকে তাকাইলাম।পুষ্পিতা বসতে বললো

 

"আমার নাম পুষ্পিতা।আমি আসলে প্রণবের ফ্রেন্ড।

 

ভাবী বললো-

 

"আমি প্রণবের ভাবী...... 

 

দুইজনের পরিচয় শেষেই গল্পের ঝুড়ি নিয়ে বসলো।আমি শুধু একবার ভাবীর মুখের দিকে তাকাই একবার পুষ্পিতার মুখের দিকে তাকাই।

 

ভাবী চলে গেলে পুষ্পিতা বললো

 

"তোমার ভাবীটা কিন্তু খুব ভালো আর অনেক মিশুক।

 

"হ্যা। মিশুক যে বুঝতেই পারছিলাম তোমাদের দেখে...

 

"প্রণব আমার রুমের লাইটটা জ্বলছেনা।একটু দেখবে?আমি লাইট না জ্বালিয়ে রাতে ঘুমাইতে পারিনা।

 

"আচ্ছা চলো দেখি…....... 

 

"কয়েকটা দিন বেশ ভালোই কাটলো।ওর হাসিটা আমাকে এতটা কেন মুগ্ধ করে আমি জানিনা। বিকালে আকাশের অবস্থা ভালো না দেখে ভাবলাম ওর সাথে আড্ডা দেই।ওর রুমের দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম।দেখলাম আমার সাদা শার্টটা আইরন করছে। এই সময় যদি শাড়ি পরতো।আর শাড়ির আঁচল কোমরে পেঁচানো থাকতো তাহলে একদম আমার বউ, বউ লাগতো।আমি একটু কাশি দিয়ে ওর পেছনে গিয়ে দাঁড়ালাম।

"পুষ্পিতা এই শার্টের বাটন তো ছেড়া। এইটা তুমি আইরন কেন করছো?

"চোখে ঠিকমতো দেখো না নাকি?

"হ্যা দেখি তো…

"চোখে ঠিকমতো দেখলে তো এটাও দেখতে শার্টের বাটন লাগানো।

"বাহ বেশ তো।কিন্তু সুঁচসুতা কই পেলে?এই বাসায় তো এসব কিছুই নেই।

"ভাবীর কাছ থেকে এনেছি।

"ভালোই…....... 

আমি বাসা থেকে বের হচ্ছিলাম দেখি ভাবি সিঁড়ি দিয়ে উপরে আসছে...... 

"কি খবর ছোট সাহেব?

"ভালো ভাবি।

"শুধু ভালো?

"হুম....... 

মেয়েটা কিন্তু সংসারী..... 

"কোন মেয়ে বলো তো??পুস্পা?

"হ্যা।ভালোই মানাবে তোমাদের।সময় থাকতে বলে দাও নয়তো অন্য কেউ নিয়ে চলে যাবে।তখন আফসোস করবে।

"আরে ধুরর ভাবী কি যে বলো না...... 

" কি যে না।যা বললাম ঠিকই বললাম।কোথায় যাচ্ছো তুমি?

"বড় মাঠে।

"আচ্ছা তাড়াতাড়ি ফিরো...... 

অর্ধেক রাস্তা যেতে না যেতেই বৃষ্টিতে ভিজে চুপসে গেলাম।ভিজতে, ভিজতে বাসায় ফিরতে লাগলাম।ফেরার সময় ভাবীর বলা কথাটা নিয়ে বেশ ভাবলাম।ভাবতেই মেজাজটা সকালের মত আবারও খারাপ হয়ে গেলো।

সকালের দিকে ঘুম থেকে উঠে ব্যাল্কনিতে দাঁড়িয়েছিলাম।নিচে তাকিয়ে দেখি পুষ্পিতা একটা ছেলের সাথে হেসে, হেসে কথা বলছে।বিষয়টা আমি কেন জানিনা মানতে পারছিলাম না।এই জন্য মেজাজ খানিকটা খারাপ ছিলো সকালে।

বাসায় ফিরে দেখি পুষ্পিতা টিভি দেখছে।চেঞ্জ করে মাথা মুছতে, মুছতে টিভির রুমে গেলাম।আমাকে দেখে পুষ্পিতা উঠে দাঁড়ালো।আমার সামনে এসে বললো-

"এইভাবে কেউ মাথা মুছে??

"কেন?

আমার হাত থেকে টাওয়েলটা নিয়ে আমার মাথা মুছে দিতে লাগলো।আবারো আমার বুকের বাম পাশটাতে মোচড় দিয়ে উঠলো।অন্যরকম একটা অনুভূতি অনুভব করতে লাগলাম যতটা সময় পুষ্পিতা আমার মাথা মুছে দিচ্ছিলো।

"প্রণব আমার জবটা হয়ে গেছে।

কথাটা শোনার পরে মুখে গুড নিউজ বললেও এটা ভেবে মনটা একটু খারাপ হলো।তাহলে কি ও চলে যাবে?

"তোমার প্রব্লেম না থাকলে আর একমাস থাকতে হবে।প্রথম মাসে স্যালারি পেলেই বাসা নিবো।

"আচ্ছা..... 

পুষ্পিতা যখন চলে যাচ্ছিলো মাথা মুছে দিয়ে আমি ওর হাতটা টেনে ধরলাম

ও দাঁড়িয়ে একবার হাতের দিকে তাকাচ্ছে আর একবার আমার মুখের দিকে তাকাচ্ছে।

"তোমাকে কিছু বলার ছিলো।কথা গুলা আমি আজকে বৃষ্টিতে ভিজতে, ভিজতে ভাবলাম।

"হ্যা বলো।

"আসলে...... 

"কি

ভাবী বলছিলো তুমি যদি আমার বউ হইলে আমাদের বেশ মানাইতো।

"ও এই কথা?ভাবী আমাকেও বলছিলো সেইদিন।

"আসলে আ...... আমি বলতে চাচ্ছিলাম যে...... 

"হ্যা বলো…

"আসলে আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই।

"বুঝলাম তো যে কিছু বলতে চাও।তা কি বলতে চাও না, বললে বুঝি কিছু হয়ে যাবে ?

 

"আ… আমি চাই যে...... 

"কি... কি চাও তুমি??

"আ...আমি চা.... চাই যে তো… তোমাকে...... 

"আ.... আমাকে কি??তোতলাচ্ছো কেন?

"আসলে আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই..... 

"কেন??

"তোমাকে খুব ভালো লাগে।তোমাকে হাসতে দেখলে অন্যরকম একটা অনুভূতি মনের মধ্যে তোলপাড় শুরু করে দেই। এই অনুভূতির নাম আমি জানিনা।কিন্তু তখন মনে হয় তুমি শুধু আমার।তোমাকে আমি আমার করে চাই।তুমি জানো অন্য কাউকে তোমার সাথে দেখলে আমার সহ্য হয়না।

"হিহিহি ব্যাস এতটুকুই?

"হাসছো কেন তুমি?

এতে হাসার কি আছে হু...... 

"আচ্ছা আর হাসবো না।তুমি তো দেখি ঠিক মতো প্রপোজ ও করতে পারো না।

"মনে যা আসছে তাই তো বললাম..... 

"হুম বুঝলাম।হাতটা ছাড়ো।

আমি হাতটা ছেড়ে দিয়ে বললাম-

"স্যরি আসলে... তুমি এখন বলো।আমার জন্য কিছু ফিল করো না??

"হুম করি তো।

"কি ফিল করো?

"এটাই যে তোমার শার্টের বাটন লাগানোর রাইটটা শুধু আমার।তোমার আমার দিকে তাকানো দেখলেই আমি বুঝতে পারি যে তুমি আমার জন্য কি অনুভব করো।

কেউ যখন কাউকে মন থেকে ভালোবাসে তখন তার চোখের ভাষা পড়ারও ক্ষমতা রাখে।বুঝলে বোকারাম?

 

"তাই না?

 

"হুম..... 

"তাহলে ভাইয়া ভাবি কে কাজী ডেকে বিয়েটা দিয়ে দিতে বলি??

পুষ্পিতা লজ্জা পেলো।এই প্রথম আমি ওকে লজ্জা পেতে দেখলাম।ওর লজ্জামিশ্রিত মুখটা দেখে বুকের মধ্যে আবারও সেই অনুভূতি নাড়া দিয়ে উঠলো.....

Enjoyed this article? Stay informed by joining our newsletter!

Comments

You must be logged in to post a comment.

About Author