Top: প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়ন্ত্রিত যাপন

পুষ্টিকর খাবার আর নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন বাড়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সঠিক থাকলে সহজে রোগ ও সংক্রমণ থেকে বাঁচা যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ভূমিকা কতখানি, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হলো এসকেএফ জিঙ্ক নিবেদিত ‘এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা’র দ্বিতীয় পর্বে। এবারের বিষয় ছিল ‘রোগ প্রতিরোধে পুষ্টিবিদের পরামর্শ’। ডা. ফাইজা রাহলার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন বিআরবি হাসপাতাল লিমিটেডের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান। অনুষ্ঠানটি ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল এবং এসকেএফের ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

খাবার তো আমরা সব সময়ই খাচ্ছি। সব খাবারই যে শরীরের উপকারে আসছে, সে ধারণা ঠিক নয়। সুস্থ থাকতে যেসব পুষ্টি উপাদান দরকার, তা কেবল ‘সঠিক খাবার’ থেকেই আমরা পেয়ে থাকি। শুধু সঠিক খাবার নির্বাচনের মাধ্যমেই আমরা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারি। আর এটি বৃদ্ধি পেলে যেকোনো রোগ–জীবাণুর বিরুদ্ধের লড়াই করা সম্ভব হবে। তাই শরীরের ‘ফাইটিং মোড’ সচল রাখতে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই কিছু পুষ্টি উপাদান রাখতেই হবে।

কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও মিনারেলস—এই উপাদানগুলো শরীর সচল ও সুস্থ রেখে থাকে। কিন্তু আমাদের বেশির ভাগ মানুষের খাদ্যাভ্যাস এমন যে দেখা যায় এই পুষ্টি উপাদানগুলোর যেকোনো একটি বেশি গ্রহণ করা হয়ে যায়। তখন শরীরে অন্য পুষ্টি উপাদানের চাহিদা অপূর্ণ থেকে যায়। তাই শরীরে সব পুষ্টি উপাদানের চাহিদা মেটাতে সুষম বা ব্যালেন্স ডায়েট মেনে খাবার খেতে হবে।

খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি জীবনযাপনের পদ্ধতিও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। কারণ, শুধু খাবার খেলেই চলবে না, খাবারটি যাতে শরীরে কাজে লাগে, সে জন্য আমাদের চলাফেরা ও বিশ্রামের দিকে নজর দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞের মতে, সন্ধ্যার পর কোনো ভারী খাবার খাওয়া উচিত নয়। কারণ, এ সময়ে শরীরে মেটাবলিজম ধীরগতিতে হয়। সূর্যাস্তের পর খেলে খাবার মেটাবোলাইজড না হয়ে ডিপোজিট হয়, অর্থাৎ জমে যায়। এতে ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের রোগ, টাইপ–টু ডায়বেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ জন্য রাতে হালকা খাবার খেতে হবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে বেশির ভাগ মানুষ ঘরে বন্দী। এ জন্য আমাদের রুটিন বদলে গেছে। অনেকে রাত জেগে কাজ করছেন বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন। আবার সকালে দেরি করে ঘুম থেকে উঠছেন। এ সময়ে লেট নাইট স্ন্যাক হিসেবে ‘স্টোরড ফুড’, যেমন: বিস্কুট, চিপস, ড্রিংকস—এ ধরনের খাবার খেতে মানুষ বেশি পছন্দ করে। এসব খাবারে আছে উচ্চ ক্যালরি ও কার্বোহাইড্রেট। এসব খাবার গ্রহণে শরীরে ফ্যাট ডিপোজিট হয় এবং নানা ধরনের রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

একটি মেশিন বিরামহীনভাবে চলতে থাকলে আস্তে আস্তে সেটার কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। মানুষের শরীরও মেশিনের মতো। শরীরে বিশ্রামের প্রয়োজন আছে এবং সেটি নিতে হবে সঠিক সময়ে অর্থাৎ রাতে ঘুমের মাধ্যমে। এ জন্য এ সময়ে রাত না জেগে সবারই উচিত অন্তত ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো।

এ ছাড়া রন্ধনপ্রক্রিয়ার দিকে বিশেষ নজর দিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞ। কারণ, সঠিকভাবে খাবার রান্না না করলে অনেক পুষ্টি উপাদান পাতে আসার আগেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যেমন, বেশির ভাগ সময় আমরা শাকসবজি কেটে তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে থাকি। এতে পানির সঙ্গে মিশে অনেক পুষ্টি উপাদান বের হয়ে যায়। আবার রান্না করার সময়ও কিছু উপাদান নষ্ট হয়। তাই সবারই উচিত সঠিক রন্ধনপ্রক্রিয়া জেনে রান্না করা, যাতে খাবারের পুষ্টিমানের কোনো পরিবর্তন না ঘটে।

আমাদের দেশে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের জন্য দেখা যায়, শরীরে কোনো না কোনো পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থেকেই যায়। এ ঘাটতি পূরণের জন্য ভিটামিন বা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। এখন এমন অনেক সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়, যাতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই বলে নিজের ইচ্ছেমতো দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যাবে না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো হয় চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা।

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান দর্শকদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা–সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

 

Enjoyed this article? Stay informed by joining our newsletter!

Comments

You must be logged in to post a comment.