ঘুমের ভান করে সিনথিয়া শোয়ার পর তার বাম হাতটা তুলে দেয় আমার বুকে সাথে বাম পা'টাও।
আমি আস্তে কারে হাতের সাথে সাথে পা'টাও পাশে নামিয়ে রেখে কাত হয়ে কোলবালিশ জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকি।
পঁয়তাল্লিশ কেজি ওজনের সিনথিয়ার হালকা পাতলা হাতটাকে আমার কাছে কয়েকশ টন ওজনের মনে হয়। আমার লোমল আবৃত প্রশস্ত বুক সেটার ভার বহন করতে পারে না।
সিনথিয়া আমার স্ত্রী। জানুয়ারির ৩ তারিখ আমাদের বিয়ে হয়েছে। বিয়েটা মায়ের পছন্দেই করেছি। আমার আসলে নিজের পছন্দের কেউ ছিল না। আবার তাৎক্ষণিক কাউকে পছন্দ করাও আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।
আমার চেহারাটাই না-কি রাগি রাগি। পাঠশালার অংকের মাষ্টারের মতো। পরিচিত কারো সাথে দেখা হলেই এ্যালজেবরার সুত্র জিজ্ঞেস করব টাইপ। সেকারণে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সব মাড়িয়ে এলাম অথচ একটা প্রেম হলো না আমার জীবনে। মেয়েরা অাসলে প্রেম করার জন্য যেমন হ্যান্ডসাম ছেলে পছন্দ করে আমি মোটেও সেরকম নয়। আমার চেহারা সাদামাটা। পোশাক আশাকও সাধারণ। আমি সারাক্ষণ বই, পড়া আর পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। এমন ছেলেকে প্রেমিক হিসাকে কে পছন্দ করবে?
প্রেম হয়নি বলে আমার যে একটা আফসোস হবে সেটাও হয়নি কোনোদিন। প্রেম না হয়ে বরং ভালোই হয়েছে। পড়াশোনাটা মনোযোগ দিয়ে করতে পেরেছি যার কারণে প্রথমবারই বিসিএসটা হয়ে গেছে।
মায়ের সরল ছেলেটা যে জীবনে কোনো নারীর সান্নিধ্য পায়নি চাকরি হওয়ার পর মা এবার উঠে পড়ে লেগেছেন আমাকে বিয়ে করানোর জন্য।
সাদামাটা চেহারার কারণে যে আমার প্রেমের বাজার মন্দা ছিল, বিসিএস অফিসার হওয়ার পর সে আমারই এবার বিয়ের বাজার চড়া।
যেসব মেয়েরা একসময় আমাকে দেখে নাক সিটকাতো আঁতেল, ক্ষ্যাত বলে, চাকরি হওয়ার পর এখন শুধু তারাই নয় তাদের পরিবারও একপায়ে খাড়া আমার সাথে আত্মীয়তা করার জন্য।
সব ছেলের মাই তাঁর সন্তানের পাশে আকর্ষনীয়, সুন্দরী মেয়েকে জীবনসঙ্গী হিসাবে কামনা করে। আমার মাও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না।
আমি যদিও মেয়েদের সৌন্দর্য বলতে তার চরিত্র ব্যক্তিত্ব, শিক্ষা আর রুচিবোধকেই মনে করি। এর সাথে বাড়তি যোগ্যতা সুন্দরী হলে তো কথাই নেই।
বিয়ের সময় আমার কাছে প্রাধান্য পেয়েছিলও একজন নারীর এসব বৈশিষ্টগুলোই।
মাঝপথে এসে বাঁধ সেঁধেছে আমার আম্মা। একমাত্র ছেলে সন্তানের মা হওয়ায় তিনি চেয়েছেন ছেলের বউ হিসাবে এমন কাউকে আনবেন যে মায়ের মেয়ে হয়ে পুতুল বউ সেজে সারা বাড়ি মাতিয়ে বেড়াবে।
মায়ের চাওয়ার ক্ষেত্রে আমি তেমন জোরালো নিষােধাজ্ঞা ও জারি করতে পারিনি।
সারা দেশে প্রায় বিশ, বাইশটা মেয়ে দেখে ক্লান্ত হয়ে মা স্থির হয়েছেন আমাদের বাড়িওয়ালা আঙ্কেলের মেয়ে সিনথিয়ার কাছে এসে।
মেয়েটা ঢাকার একটা স্বনামধন্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ শেষ বর্ষে পড়ে।
গায়ের রং যেমন ফর্সা , তেমনি লম্বা, আকর্ষনীয় চেহারা মোটকথা একপলক তাকালেই দৃষ্টি হারিয়ে ফেলার মতো।
আমি প্রথমে ভেবেছি বিসিএস অফিসার হলে কি হবে আমার মতো ক্যাবলাকান্ত টাইপ চেহারার ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দেয়ার কথা উঠলে প্রথমে এই মেয়ের বাবাই নিষেধ করে দেবেন। মেয়েকে আর কষ্ট করে না করতে হবে না।
এদিকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া সিনথিয়ার ও ছেলে বন্ধুর অভাব ছিল না। তাদের ভীড়ে আমি নেহাতই অযোগ্য।
আমার শুধু মায়ের উচ্ছাসে পানি ঢালতে ইচ্ছে করেনি, সেকারণেই আমি মাকে সরাসরি কিছু বলিনি।অপেক্ষায় করছিলাম মা নিজেই রিজেক্টেড হয়ে ফিরে আসার।
কিন্তু না আমার ভাবনা মোটেও সঠিক হয়নি। মা সিনথিয়ার বাবার কাছে আমাদের বিয়ের প্রসঙ্গে কথা তুলতে না তুলতেই তারা একপায়ে খাড়া। পারলে তখনই আমাদের বিয়ে পড়িয়ে দেন।
মায়ের কথা শুনে আমার মোটেও বিশ্বাস হয়নি। আমি তখনও ভেবেছি, প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা ছেলের কাছে বিয়ে দেয়ার স্বপ্ন মেয়ের বাবার থাকতেই পারে।
মেয়ে কখনো রাজি হবে না।
তাই মাকে বেশি উচ্ছস্বিত হতে নিষেধ করে সিনথিয়ার মতামতের জন্য অপেক্ষা করতে বলেছিলাম।
না মাকে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। অধিকাংশ সময় জিন্স, টপস পরা সিনথিয়া শাড়ি পরে পরের দিন সন্ধ্যায় একবাটি পায়েস নিয়ে আমাদের বাসায় এসে হাজির হয়েছে।
আমি তখন মাত্রই অফিস থেকে ফিরেছিলাম। আমার কেন জানি মনে হয়েছিল সিনথিয়া আমার অফিস থেকে ফেরার প্রতিক্ষায়ই ছিল।
পাঁচবছর একই বাসায় থেকে কিশোরী সিনথিয়াকে চোখের সামনে তরুণী হতে দেখলেও মনে হয়েছিল আসলেই কখনো তাকে সেভাবে দেখা হয়নি।
মায়া মায়া দুটো চোখ যখন সেদিন পায়েস হাতে আমার চোখের সাথে এসে মিলেছিল। সেদিনই মনে হয় আমি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছিলাম।
আমার হাতে পায়েস তুলে দিয়ে লজ্জাবতী কিশোরীর মতো সেদিন মাথাবনত করে দৌড়ে পালিয়ে গিয়েছিল সিনথিয়া আমার সামনে থেকে।
এর পরে আর বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি। পরের সপ্তাহে বেশ ধুমধাম করেই আমাদের বিয়েটা হয়ে গেল। দু'পক্ষের সবার মতামতের ভিত্তিতে।
সবচেয়ে বড় কথা সিনথিয়াও তার বাবা, তারা যেন মুখিয়েই ছিল আমার সাথে আত্মীয়তা করার জন্য।
আমিও জীবনসঙ্গী হিসাবে সিনথিয়াকে পেয়ে খুব আনন্দিত ছিলাম। এর কারণ কিন্তু সিনথিয়ার সৌন্দর্য নয়। আমি আসলে মাকে খুশি করতে চেয়েছি। আমার সাথে সিনথিয়ার বিয়ে হওয়ায় মা ভীষণ খুশি হয়েছেন।
আমরা চলে গেলাম কক্সবাজর হানিমুনে। বিয়ের কয়েক মাস স্বপ্নের মতোই কেটেছিল আমার। সিনথিয়াও যেন উজাড় করে দিয়েছে নিজেকে আমার কাছে।
বিপত্তি শুরু হলো হানিমুন থেকে ফেরার পর। সিনথিয়া যেন বদলে যেতে শুরু করল খুব ধীরে। সে আমার স্ত্রী, আমার পাশে থাকে, আমায় কাছে রাখে তারপরও কেমন যেন যোজন-যোজন দূরত্ব আমাদের মাঝে।
সে কোথাও যাবে, পছন্দের পোশাক বাছাইয়ের জন্য সে আমার মতামত না নিয়ে তার বন্ধুকে ফোন করে।
বন্ধুর পছন্দ করা পোশাক পরেই বাইরে যায়। যাক না আমার সাথে। প্রথম দিন আমি অবাক হয়েছি, সিনথিয়া কি আমায় তার রুচি অনুযায়ী পোশাক বাছাই করার বিষয়ে অযোগ্য ভাবছে?
আমি এড়িয়ে যাই পুরো বিষয়টাই। যাই হোক আজকালকার মেয়ে হয়তো ভেবেছে আমি বুঝবো না তার পছন্দ, অপছন্দের বিষয়টা । হয়তো এই বন্ধুর সাথে সিনথিয়ার জানাশোনা দীর্ঘদিনের, হুট করে তো সব পরিবর্তন করা যাবে না। আস্তে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে।
সিনথিয়া তার বন্ধুদের পরামর্শ নিয়ে এক সাথে মুভি দেখে, পছন্দের সিন আসলে কল দিয়ে অনুভূতি শেয়ার করে। তখন হয়তো আমি বাসায় উপস্থিত থাকি। অথচ আমার সাথে এসব নিয়ে সিনথিয়ার গল্প হয় না।
স্বামী, স্ত্রী হিসাবে আমার রোজ কাছে আসি, হৃদয়ের উত্তাপ নেই, ভালোও বাসি। এরপর দুজনে রাত জাগি, পাশাপাশি শুয়ে থাকি। অথচ কথা না। যদিও বা হয়, "কখন অফিসে যাবে, বাবার শরীর খারাপ, আমার কিছু টাকা লাগবে। "এসব প্রয়োজনীয় কথা বলতে বলতে একসময় যেন সব কথা পুরিয়ে যায়।
অথচ সিনথিয়া প্রচুর কথা বলতে জানে, প্রাণ খুলে হাসতে জানে। আমার কাছে আসলেই যেন সে নির্বিকার হয়ে যায়।
কেউ তো তাকে আমার সাথে জোর করে বিয়ে দেয়নি। যদিও প্রস্তাব আমার মাই প্রথমে দিয়েছেন, তারাও তো সাথে সাথে কোনো ধরনের চিন্তা,ভাবনা ছাড়াই হ্যাঁ করে দিয়েছেন।
আমাদের বিয়ে হয়েছে, হানিমুন হয়েছে। তারপরও কেন জানি সিনথিয়া আমার সাথে সহজ হতে পারছে না।
মা বলছেন সব ঠিক হয়ে যাবে, বড় লোকের একমাত্র আদরের মেয়ে। আমিও ভেবেছি মায়ের কথা মতো হয়তো একদিন সবই ঠিক হয়ে যাবে।
আমাদের বয়সের পার্থক্য খুব একটা বেশি না। বন্ধুদের অনেকের বউও প্রায় একই বয়সী। তাদের মাঝে কত বোঝাপড়া।
আমার সমস্যা কোথায় জানার জন্য আমি এক সপ্তাহ সময় নিলাম। সিনথিয়াকে বুঝতে চেষ্টা করলাম। সে আমার সাথে প্রাণ খুলে কথা বলার জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই কথা বলতে শুরু করলাম। না অবস্থার তেমন উন্নত হয়েছে বলে মনে হয়নি।
আমার ভীষণ মন খারাপ হলো।
বিছানায় আমি পুরুষ হিসাবে অযোগ্য নয়। পারিবারিক মর্যাদা বা সামাজিক মর্যাদা কোনোটাই আমার কম নয়। আমি দেখতে ফর্সা না হলেও সুদর্শন। আমি সিনথিয়াকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিয়েছি।
মাও তাকে মেয়ের মতো পছন্দ করে, ভালোবাসে।
তারপরও কোথায় যেন বিশাল গ্যাপ, যেটা আমি ধরতে পারছি না।
গতকাল হঠাৎ অফিস থেকে ফিরে শুনতে পাই সিনথিয়া তার এক বান্ধবীর সাথে ফোনে বলছে,
" যাই করিস জীবনে, বিয়ের সময় কিন্তু ভুল নয়। বিয়ে করতে হবে প্রথম শ্রেণির কোনো কর্মকর্তাকে। এরপর এরা থাকবে পার্মানেন্ট, তোর সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করবে, তোকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দেবে আবার পাগলের মতো ভালোও বাসবে।"
এরপর আবার সিনথিয়ার উচ্চস্বরে হাসি।
" আমাকেই দেখ না, যাই করেছি। বিয়ের সময় কিন্তু ঠিকই বাবা মায়ের পছন্দে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাকেই বিয়ে করেছি।"
কিছুক্ষণ নিরবতার পর সিনথিয়ার কণ্ঠে তাচ্ছিল্য,
" আরে দূর এরা এত কিছু বুঝে না-কি! সারাজীবন আঁতেলদের মতো বইয়ের ভাঁজে মুখ গুঁজে পড়েছিল। এরা জীবন সম্পর্কে কী বুঝো! না হয় কারো প্রথমবারই বিসিএস হতে শুনেছিস?"
সিনথিয়া যে আমাকে নিয়েই এতক্ষণ কথা বলছিল তার কোনো প্রিয় বান্ধবীর সাথে সেটা বুঝতে আমার মোটেও অসুবিধা হয়নি।তবে মুহূর্তে আমি যা বুঝার বুঝে গেছি। তবে সিনথিয়াকে কিছুই বুঝতে দেইনি।
আমার এত কষ্ট হচ্ছিল যে ইচ্ছে করছিল চিৎকার দিয়ে কান্না করি।
ঠকে গেলাম, না-কি ঠকিয়ে দিলাম বুঝতে আমার একটু সময় লেগেছে।
আমি আমার কষ্ট নিজের কাছে গচ্ছিত রেখে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি সিনথিয়ার সাথে।
কিন্তু থাকতে পারছি কই?
থাকতে পারবই বা কিভাবে? আমি তো সিনথিয়াদের মতো বড়লোক বাবার সুন্দরী মেয়ে নয়, যাদের টার্গেট থাকে আমার মতো সৎ, সরল কোনো ছেলে, যাকে সুন্দর মুখের মিথ্যা হাসি দিয়ে ভুলিয়ে সারা জীবন মিথ্যা অভিনয় করা যায়।
সুখে থাকার ভান করে যায়, সুখে রাখার ভান করে যায়। আচ্ছা যারা অন্যকে ঠকাতে গিয়ে মিথ্যা অভিনয় করে তারা নিজেরা কি ঠকে না!
প্রতিদিনের মতো অফিসের কাজ শেষ হলেই আজ আর আমি আর ঘরে ফেরার তাড়া অনুভব করছি না। আমার মনে হচ্ছে যদি আর কখনো ঘরে ফিরতে না হতো, যদি সিনথিয়ার মুখোমুখি না হতে হতো তাহলে হয়তো বেঁচে যেতাম। আমাকেও আর মিথ্যা অভিনয় করতে হতো না।
কিন্তু না সে উপায় নেই। অফিস ছুটির পরপরই সিনথিয়া ফোন দেয়া শুরু করেছে। তাকে নিয়ে শপিং করতে যেতে হবে।
অত বেশি জরুরী নয় তাই আমি পরেরদিন নেব বলে একটু নিজের মতো থাকতে চেয়েছি। আসলে সিনথিয়ার সামনে পড়তে ইচ্ছে করছিল না।
ভদ্র ছেলে, ভালো স্বামী হিসাবে আমার একটা সুনাম আছে সেকারনে ইচ্ছে থাকা স্বত্তেও রাতে বাইরে থাকতে পারিনি।
একসময় বাড়ি ফিরে এসেছি, প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিক আচরণ করতে পারিনি সিনথিয়ার সাথে। আমি ইচ্ছে করেই বাহির থেকে খেয়ে এসেছি।
হঠাৎ করে আমার অপরিচিতের মতো আচরণ দেখে সিনথিয়া ঘাবড়ে যায়। সে শোয়ার আগ পর্যন্ত আমার সাথে আর কোনো কথা বলেনি।
এবার মধ্যরাতে আমি ঘুমিয়েছি ভেবে আলতো করে তার হাত এনে আমার বুকের উপর রেখে ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করছে । অন্য কোনোদিন হলে সিনথিয়ার নিজ থেকে সাড়া দেয়ার ব্যাপারটাই আমি যারপরনাই মুগ্ধ হতাম।
আজ হতে পারছি না আমার কষ্ট হচ্ছে। ঠকে যাওয়ার কষ্ট। একটা মেয়ে স্ত্রী পরিচয়ে আজীবন আমার পাশে থাকবে, আমাকে ভালোবাসে বলে মিথ্যা অভিনয় করবে। আর আমি তার অভিনয় ধরতে পেরে নিজেকে সুখী স্বামী ভেবে স্বস্তির ঢেকুর তুলতে পারব না।
আজীবন ঠকে যাওয়ার একটা যন্ত্রণা আমাকে কষ্ট দেবে।
শুধু আমি নয়, আমার মতো এমন হাজারও নাইম আছে যারা বড় কর্মকর্তা হওয়ার সুবাধে বড়লোকের লোভী, সুন্দরী মেয়েদের হাতের পুতুল হয়ে একজীবন কাটিয়ে দেয়।
নিজেকে যোগ্য স্বামী, স্ত্রীর প্রেমিক মনে করে নির্ভার থাকে। আসলে লোভী, সুন্দরী মেয়েরা কোনো ব্যক্তিকে ভালো বাসে না, ভালোবাসে তাদের পকেট ভর্তি টাকাকে, ভালোবাসে তাদের পদমর্যাদাকে।
তাদের থেকে আমার পার্থক্য হচ্ছে আমি ছলনাময়ী চিনতে পেরেছি, অনেকে সেটাও পারে না। এখন আর কেউ আমার সাথে অভিনয় করতে পারবে না। ঠকাতে পারবে না। আমি যে অভিনেত্রীকে চিনে ফেলেছি। এখন থেকে আমিই অভিনয় করব।
ছলনা
কামরুন নাহার মিশু
You must be logged in to post a comment.