Top: নীলাভ্র আর নীলাম্বরীর গল্প

মৌ'য়ের ফোনটা হাতে নিয়ে ফেসবুক স্ক্রল করতে গিয়ে গার্লস গ্রুপের একটা পোস্ট দেখে ভীষণ অবাক হলাম। মুহূর্তেই মনে প্রশ্ন জাগলো, এমন বাবা মাও হয়? সেই পোস্টটা গুছিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
"বিয়ের আগেও এমন করতো আর বিয়ের পর বাবার বাড়ি এসেছি, এখনও এমন করে।
কাল শেষ রাতে পিরিয়ড হয়েছে। পিরিয়ড হলে প্রচন্ড ব্যথা হয়। ভোর ৪টা, আম্মু উঠে সেক দেয়ার জন্যে গরম পানি বোতলে ভরে দিলো। আমি কিন্তু চাইনি, তাও দিলো। পরে সেক দিতে দিতে ভোরের দিকে আরামে একটু ঘুমালাম।
সকালবেলায় আম্মু কোন একটা আম্মু কোন একটা কাজে বাহিরে যাবে। তাই আমাকে ডাক দিয়ে বললো, আমি বাইরে যাচ্ছি, তাড়াতাড়ি চলে আসবো, তুই উঠে নাস্তা করে ঔষধ খেয়ে নিস। যাওয়ার সময় আব্বুকে বললো, ওরে একটা ডিম সিদ্ধ করে দিয়েন। ️
আমি দেরি করেই উঠলাম। যোহরের আযান দিচ্ছে। তখন আব্বু ডাক দিলো, "আম্মুরে, উঠো! নাস্তা করে নাও। ওয়াশরুমে বালতিতে গরম পানি মিক্স করে দিয়ে আসছি।" কথাটা শুনেই মনটা কি যে শান্তি পেল, বলে বুঝাতে পারবো না। এ যেন মেঘ না চাইতে বৃষ্টির মত। কারণ এতদিন তো শ্বশুরবাড়ি ছিলাম।শ্বশুরবাড়িতে এই ব্যথা নিয়ে আমি কাজও করি, শুধু কথা শুনার ভয়ে৷ তবুও কারও মন পাই না। উল্টো কাজের সময় ব্যথা নিয়ে একটু বসে থাকলে শ্বাশুড়ি নামের মানুষটাকে মুখ কালো করে থাকতে দেখি। শ্বশুরবাড়িতে সবার জন্য করতে করতে নিজের প্রতি খেয়াল রাখা হয়ে উঠে না।
বিয়ের আগের সময়ের মত আব্বু আমার জন্য পানি মিক্স করে দিয়ে রাখলো। শীতে ঠান্ডা পানির স্পর্শে আমার ব্যথা বেড়ে যায়, এটা এখনও আব্বুর মনে আছে৷
ঘুম থেকে ওঠে ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে আসলাম। আম্মু না থাকায় আব্বু আমার জন্যে পরোটা ছেকে দিলো, চা গরম করে দিলো৷ আর রাতে যেই পানির বোতল আম্মু দিয়েছিলো, আব্বু সেই সুযোগে আবার সেটায় গরম পানি ভরে দিয়ে আমার বিছানার কাছে রেখে গেলো।
আর ঔষধের বক্স বেড এর পাশে এগিয়ে দিয়ে গেলো।
বাবা মায়ের এই যত্নের প্রতিদান কী দেয়া সম্ভব?
মন থেকে দুয়া আসলো আর চোখে পানি। বাবা মায়ের ভালোবাসা সত্যিই অমূল্য।"
.
ইশরাত জাহান মৌ। বয়স উনিশ। শান্তশিষ্ট স্বভাবের, দেখতে বেশ, রান্নার হাত ভাল, পড়াশোনায়ও বেশ ভাল। বিয়ের মেয়ে বাছাইয়ের একটা নিয়ম আছে, আগে দর্শনধারী, পরে গুণবিচারী। দুটো গুণই মৌয়ের আছে।
মৌ মামার বাড়িতে বড় হয়েছে। বাবা-মা থেকেও নেই। বাবা বিদেশে আরেকটা বিয়ে করে স্থায়ী হয়েছেন। আর মৌয়ের তিন বছর বয়সে মামারা ওর মাকে জোর করে আরেক জায়গায় বিয়ে দিয়েছিল। তারপর থেকে মায়ের সাথে মৌয়ের যোগাযোগ থাকলেও পরিপূর্ণ মাতৃস্নেহ পায় নি।
মা-বাবা হীন এমন মেয়ের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে বাবার কিঞ্চিৎ অমত থাকলেও মায়ের জোরাজুরিতে বিয়েটা হয়ে যায়। আর আমি তো বিয়ে করবো না বলে মনস্থির করেছিলাম, কিন্তু মায়ের অসুস্থতার জন্য বিয়ে করতে হল।
.
একদিন মৌয়ের পরনের অমলিন ছেঁড়া পোশাক নিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, পোশাক পুরোনো হয়ে গেছে। তাও আমাকে বলো নি কেন?
আমার চাহিদাগুলো যদি আপনাকে বলে দিতে হয়, তাহলে আপনি আমার দিকে তাঁকাতেই ভুলে যাবেন।' মৌ এর এমন জবাবে কিঞ্চিৎ লজ্জায় ওর মুখের দিকে তাঁকাতে পারছিলাম না। আসলেই তো! মৌ এর দিকে শেষ কবে মনোযোগ সহকারে তাঁকিয়েছি, তা খেয়াল নেই।
মৌ ওভাবে জবাব দিবে এমনটা আশা করি করি নি। তবে এই মেয়েটার অদ্ভুত আচরণে আমি মাঝেমাঝে অবাক হয়ে যায়। আমি মাঝেমাঝে অবাক হয়ে যায়।
.
মৌ কে আমি মৌমাছি নামে ডাকি। আমার ডাক সে শুনে লজ্জা পায়, সাথে মুচকি হাসে। আমিও বিষয়টা বেশ উপভোগ করি। লজ্জা জিনিসটা নারীর মধ্যে না থাকলে তাকে নারী হিসাবে মানায় না।
আমি মৌয়ের কোলে মাথা রেখে বলি,
-মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিবে?
মৌ লজ্জা পায়। ওর সমস্ত মুখে লাল আভা বিরাজ করে। আমি ওর বাঁ হাতটা নিজের হাতের মাঝে নিয়ে মুষ্টিবদ্ধ করি।
মৌ যত্নসহকারে আমার মাথা বিলি কেটে দেয়। তার কোমল হাতের স্পর্শ আমার সারাশরীর আন্দোলিত করে তোলে।
.
বিয়ের আগে মেয়েদের বাবাই তাদের বটের ছায়ার মত আগলে রাখে। কিন্তু বিয়ের পর সে সব কিছু ফেলে স্বামীর কাছে চলে আসে। আজানা পরিবেশে একজন অচেনা মানুষকে নিজের করে নেয়। কিন্তু মৌ না পেয়েছে মায়ের আদর, না পেয়েছে বাবার স্নেহ। সব বাবারা বোধহয় বটবৃক্ষ হয় না, কিছু বিষবৃক্ষও হয়।
আমি স্বামী হয়েও মনের দিক দিয়ে মৌকে শতভাগ আপন করে নিতে পারি নি। কোথাও যেন একটা ঘাড়তি রয়ে গেছে। ঐ পোস্টটা পড়ে মনটা কেমন যেন হয়ে উঠলো। আদর্শ স্বামী হিসেবে নিজেকে ব্যর্থ মনে হল।
.
সেদিন রাতে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছিল। ফোনটা রেখে মৌয়ের দিকে তাঁকালাম। এলোকেশে নিষ্পাপ মায়াবী চেহারার এক অতিমানবী আমার হস্তযুগলের সন্নিকটে ঘুমোচ্ছিল। ফ্যানের বাতাসে কর্ণকুহর নিকটবর্তী একগুচ্ছো চুল বারবার আমার দৃষ্টিভ্রম করতে লাগলো। চুলগুলো সরিয়ে দুপ্রস্থ বাড়িয়ে আমার মৌমাছিকে নিজের বাহুডোরে আবদ্ধ করলাম। ললাটে আলতো করে একটা চুমু খেয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।
পাগলিটা চোখ বন্ধ রেখেই উমম কি হচ্ছে বলে একটা শব্দ করলো।
সারাদিনের রৌদ্রদগ্ধ আগুন যেন রাতের বৃষ্টির শীতলতায় হার মেনেছে। আবহাওয়া নেমে গেছে, ঠান্ডা বাতাস বইছে। আমার আর ঘুম আসছিল না। আমার পাগলি বউটার ঘুম ভাঙাতেও মায়া লাগলো, তাই আর ডাকলাম না। এমনিতেই সারাদিন কত কাজ করে। মৌ আমার পরিবারকে এতটা আপন করে নিতে, আমি কখনও ভাবি নি।
হঠাৎ বিকট শব্দে বজ্রপাত হল, পাগলিটা বড্ড ভয় পেয়ে আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। বজ্রপাতের শব্দে ওর ঘুমটা হালকা হয়ে গেল। আমি একটু উঠতে চাইলাম। কিন্তু সে তো আর উঠতে দিলো না। তার কিছুক্ষণ পর উঠলাম, প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে হবে। সেদিন
আমার ঘুম হওয়া হয়ে গেছে।
আমি যখন বাথরুমে তখন মনে মনে ভাবলাম, চা খেলে মন্দ হয় না। রান্নাঘরে ঢুকে পানি গরম করতে দিলাম। হঠাৎ মাথায় আরেকটা দুষ্ট বুদ্ধির উদয় হল, পাগলিটার সাথে একটু দুষ্টুমি করি। আজকের এই বৃষ্টিস্নাত মধ্যরাতে বৃষ্টিবিলাস করবো। এখন কোনভাবেই ঘুমানো চলবে না।
বেড়রুমে গিয়ে আমার মিষ্টি বউটার কর্ণের কাছে মুখ নিয়ে বললাম,
'' ওগো বৃষ্টিকন্যা, আর কত ঘুমাবে? একবার উঠেই দেখো না। বাহিরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টিতে যদি না ভিজো, তাহলে এই রাতটা মধুর হবে কি করে, শুনি?"
আমার মুখে বাড়তি আদিখ্যেতা দেখে চোখ বড় বড় করে তাঁকালো।
.
মৌ বড্ড বৃষ্টি বিলাসী। বৃষ্টির কথা শুনলেই আর কোন কথা নেই, ভিজতেই হবে, সে বৃষ্টি জোরে হোক কিংবা আস্তে হোক। শৈশবের এই একটামাত্র চঞ্চলতা এখনও নিভে যায় নি। আমার মাঝেমাঝে মনে হয়, মৌ আমার চেয়ে দ্বিগুণ বোঝে। আমার চেয়ে তার ম্যাচিউরিটি অনেক বেশি। সে আমার মন পড়তে পারে। আমি শুধু আমার প্রয়োজনে মৌ কে খুঁজি, তার প্রয়োজনটা আমার কাছে উপেক্ষিত থাকে। তবুও সে মানিয়ে নিয়েছে কিংবা পরিস্থিতি তাকে মানতে ব্যধ্য করেছে। আমি চাই, তার প্রয়োজনটাও আমার দৃষ্টিগোচর হোক।
মৌ আমার কণ্ঠে বৃষ্টির কথা শোনা মাত্রই লাফিয়ে উঠল। ততক্ষণে সে বুঝে নিয়েছে, বৃষ্টি হচ্ছে। কারণ, বউটা জানে তখনই এই নামে ডাকি যখন বৃষ্টি হয়।
পাগলিটা বললো, 'চলো এখনই ভিজতে হবে।'
আমি বললাম,
-মৌমাছি!
বৃষ্টি প্রায়ই থেমে গেছে, আর এত রাতে কেউ বৃষ্টিতে ভিজে নাকি? অসুখ করবে। জ্বর, সর্দি বাঁধাবে, তখন তো আমাকেই কষ্ট করতে হবে। আজ থাক, অন্য কোন দিন ভিজবো।'
উনি রাগ দেখিয়ে মুখটা ঘুরিয়ে নিল। মুখ ভার করে বললো, 'আমার সাথে কোন কথা নেই। তুমি আমাকে ভালবাসো না।'
ওদিকে রাগের মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। জানি, এ রাগ যদি আমি না ভাঙ্গাই তাহলে আমার খবর আছে। গালদুটো ফুলতে শুরু করেছে, চোখের চাহনী বেশ তীক্ষ্ণ। অভিমান করলে গাল দুটো ফুলে যায়। আমার তো ফোলা গাল দুটো দেখতে ভালোই লাগে। তাই মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে রাগিয়ে দিই।
আমি বারবার না না বলার পরেও সে উঠে, আমার হাত ধরে টানতে শুরু করলো।
আমি জানি, এখন কোন কথায় কাজ হবে না, আমায় তো ছাদে যেতেই হবে। আর আমি ততো আমার অভিমানী বউটার কথা না শুনে থাকতেই পারি না।
আমি উঠে, বউটাকে পাঁজকোলে নিয়ে ঝুল বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। কিন্তু সেখানে হবে না, বরং ছাদে নিয়ে যেতে হবে। অগত্যা কর্ত্রীর নির্দেশ শিরোঃধার্য। ছাদের পশ্চিম কোণে ছাওনীর নীচে নামিয়ে কানে কানে বললাম, আমি নিচে যাবো, আর আসবো, এখান থেকে একটুও নড়াচড়া নেই, বৃষ্টির মধ্যে নামবে না।
.
আমি দু কাপ লেবু চা বানিয়ে ছাদের উদ্দেশ্যে হাঁটা দিলাম। যেয়ে দেখি, উনি চিলেকোঠায় দাড়িয়ে, দুহাত প্রসারিত, চক্ষুদ্বয় বন্ধ, আকাশ প্রাণে চাহিয়া মনের আনন্দে ভিজিতেছেন। অন্ধকার রাত তবুও আলোর ঝিলকানীতে খইয়ের দানার মতো বৃষ্টির ফোটা পাগলিটার মুখে পড়ছে, তবু পাগলিটা নির্বিকার। বৃষ্টি আর আমার বৃষ্টিকন্যা প্রকৃতির অতল গহ্বরে মগ্ন। খোলা চুল গড়িয়ে পানি পড়ছে। কামিজটা শরীরের সাথে লেপ্টে গেছে।
আমি আর বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। চায়ের কাপ দুটো বিমের উপর রেখে পাগলিটার কোমর বরাবর পেছন দিয়ে জড়িয়ে ধরে কাধে আলতো করে ঠোটের উষ্ণ স্পর্শ দিয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে বললাম,
-'ওহে বৃষ্টিকন্যা, লেবু চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে তো!'
.
অতঃপর,
খোলা আকাশের নীচে লেচু চা! কিছুক্ষণ বৃষ্টিকন্যার সাথে বৃষ্টিবিলাস!
-মৌমাছি,
-উম!
-চলো না, অনেকক্ষণ হয়ে গেলো।
- উমম! আর একটুখানি।
- আমি বললাম অনেক হয়েছে। আর না। চলো বলছি! অসুখ করবে!
- না, না! আর একটু প্লিজ!
- আমি মনে মনে ভাবলাম, যেভাবে এনেছি সেভাবেই নিতে হবে, নাহলে শুনবে না। পাগলিটাকে জোর করে ধরে কোলে করে নিতেই বাচ্চাদের মতো হাত পা ছোড়াছুড়ি শুরু করে দিল। কে শোনে কার কথা। একদম সরাসরি বাথরুমে ঢুকে পোষাক পরিচ্ছদ চেঞ্জ করে কাঁথা মুড়িয়ে শুয়ে পড়লাম।
পাগলিটার আমার বুকের উপর দুবাহুর মধ্যে..
.
-ও মৌমাছি,
-হুম বলো।
- আজ যদি তোমায় না ডাকতাম, তাহলে কি হত!
- হুম। কাল সকালে তোমার বিচার হত।
- আচ্ছা! বিচারে কি শাস্তি হতো?
-একশো বার কান ধরে উঠবস আর সাথে কিলঘুষি ফ্রি!
-কি বললে তুমি? নিজের স্বামীকে এভাবে কেউ নির্যাতন করে? আমি কিন্তু পুরুষ নির্যাতন মামলা করবো। এভাবে অত্যাচার করলে কেউ তো বেঁচে থাকে না।
-চুপপপপ! এই কথা কখনও বলবা না। তোমার কিছু হলে, আমি কার বুকে মাথা রাখবো?
-তাহলে কান ধরা, কিলঘুষির কথা বললে কেন?
- আমি তো একটু দুষ্টামি করলাম। তোমার শাস্তিস্বরুপ একশো বার ধরার বিনিময়ে একশো টা কিস দিতে চাই।
-এই পাঁজি! এত কম শাস্তি! এত কমে আমার হবে না। আমি তাহলে এমন ভুল বারবার করতে চাই। আমি তো একবার ধরলে কয়েকশ চুমুতে।
-এই চুপপপ! একদম চুপ। সবসময় দুষ্টামি! এমন করলে কিন্তু শ্বাশুড়ী আম্মুর কাছে চলে যাবো।
-যাও না! নিষেধ করছে কে? দেখি, আমার মৌমাছি আমায় কতটা ভালবাসে?
-চুপপ( জড়িয়ে ধরে)। সকালে আপনার অফিস আছে। কোন কথা না, ঘুমান।
পাগলিটার মাথাটা আমার থুতনী বরাবর। ভেজা চুলের গন্ধটা আমার নাকে আসছে। মাথার উপর একটা কিস করলাম।
-এই! এই! এখন আর বাঁদরামি করবা না..বলছি। একদম ভালো হবে না!
-মৌ জানো, আমি মাঝেমধ্যে তোমার থেকে দুরে সরে যায়। আমার মনে হয়, তোমাকে আমি পরিপূর্ণ ভালবাসতে পারছি না। সত্যি বলছি, আমি তোমাকে ঠকাতে চাই না।
-চুপপ (শক্ত করে জড়িয়ে ধরে)! আমি সবকিছুই জানি।
-কিভাবে জানো?
-তোমার সবকিছুতেই আমার অধিকার আছে। আমি খুঁজে নিয়েছি, বুঝে নিয়েছি তোমার কষ্টটা কোথায়।
-রেকর্ডিংটা শুনেছো?
- হুম। অনেকবার।
-আমাকে বলো নি কেন?
-তোমাকে বললে তুমি মন খারাপ করতে।
-আমি কি কোনো ভুল করছি?
আমি মাথা নিচু করে রাখি। কাঁদি না। কিন্তু আপনাআপনিই চোখ থেকে কেবল পানি পড়ে। মৌ এর দিকে তাঁকানোর ক্ষমতা নেই। ও আমার চোখের পানি মুছিয়ে দেয়। আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারি না। শব্দ করে কেঁদে দেই। মৌও কাঁদে। আমি কান্নাভেজা কন্ঠে বলি, তুমি আমাকে মাপ করে দাও। আমি পরিপূর্ণভাবে তোমার খেয়াল রাখতে পারি নি। এই ঘটনাটা আমাদের মাঝে অদৃশ্য দেয়াল তৈরী করে রেখেছে। আমি কি পারবো, এই দেয়াল ডিঙিয়ে তোমায় ভালবাসতে?
-চুপ। আর একটা কথাও বলবা না। পাঁচ মিনিটের অডিও ক্লিপে সে যেভাবে তোমাকে ভালবাসার কথা বলেছে, আমি ততটুকু পারবো কি না জানি না। তবে তোমার সাথ আমি কখনও ছাড়বো না। তোমার সেই মানুষটা তো আর পৃথিবীতে নেই। তার জন্য মনে কষ্ট পুষে রেখো না। আমরা দুজনে তার আত্নার শান্তির জন্য দোয়া করবো।
মৃত পথযাত্রী একটা মানুষকে বেঁচে থাকার উৎসাহ্ যোগাতে গিয়ে তার মায়ায় পড়ছিলাম। তার মৃত্যুর পর মায়ার মাত্রাটা আরো তীব্রতর হয়েছিল। আজ মৌয়ের কথায় আমি ভরসা পেলাম। এই মেয়েটা নিশ্চয়ই একদিন ঐ অদৃশ্য দেয়াল ভাঙতে পারবে। আমিও আমার মৌমাছির প্রিয় মৌয়াল হওয়ার চেষ্টা করবো।
.
মৌয়ালের মৌমাছি
লিখায়- বাঁধন আহমেদ।

Enjoyed this article? Stay informed by joining our newsletter!

Comments

You must be logged in to post a comment.