Top: নীলাভ্র আর নীলাম্বরীর গল্প

আমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও কয়েক দিনের ব্যবধানে পাত্রী দেখতে গিয়ে মাত্র অষ্টাদশী এক কন্যার রুমে রাত্রী যাপন করতে বাধ্য করা বাধ্য করা হয়েছিল। অপরিচিত পরিবেশ, অপ্রস্তুত একটা মেয়ে, অস্বাভাবিক পরিস্থিতি, নিজেই নিজের সাথে থতমত খেয়ে ফেলছিলাম। আমাকে ঘরের মধ্যে কয়েক কদম অগ্রসর হতে দেখে মেয়েটা গুটিসুটি মেরে বসলো। অথচ এই ঘরে মেয়েটির একচ্ছত্র আধিপত্য, আর সেই কিনা খাটের কিনারে ভয়ে গুটিসুটি মেরে বসে আছে। লজ্জার নিরবতা ভেঙে বললাম, 'ভয় পাবেন না। বিয়েতে আমার কিঞ্চিৎ ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে বিয়েতে বাধ্য হতে হয়েছে। আপনি নির্ভয়ে ঘুমাতে পারেন, আমি আপনার অনুমতি ব্যতিত আপনাকে স্পর্শ করবো না। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য আমাকে মাপ করবেন।
মেয়েটি আমার কথামতো গুটিসুটি মেরে অন্য পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো।
.
আমার বয়সের গণ্ডি ২৭ পেরিয়েছে, বিয়ে করবো না বলে একপ্রকার মনস্থির করেছিলাম। কারণ এই অল্প বয়সে পৃথিবীর অনেক রংয়ের দেখা মিলেছে। নতুন করে আর কাউকে বিশ্বাস করতে চাই না।
হঠাৎ মা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আমাদের পরিবারে মহাদুর্যোগ নেমে আসলো। বাবা, আমি আর ছোট ভাই, বাড়িতে আর কোন মেয়ে বা স্ত্রীলোক নেই। রান্না নিয়ে মস্ত ঝামেলা সৃষ্টি হল। আমি টুকটাক রান্না পারলেও তা দিয়ে তো আর রেগুলার চলে না। নিজেরা রান্না করে আর কতবেলা খাওয়া যায়? অগত্যা, বড়ছেলে হওয়ার বদৌলতে আমার উপর পারিবারিক ও পরিপার্শ্বিক চাপ আসতে শুরু করলো। শান্তশিষ্ট, ভদ্রতার মুখোশ পড়ে আমাকে শেষমেশ মৌন সম্মতি জানাতেই হল।
.
বিয়ে করবো না এমন সিদ্ধান্তের কথা গল্পের প্রথমেই বলছিলাম। তার পেছনে আমার একটা অতীত আছে। আমি একজনকে এতটাই ভালবাসতাম যে, তাকে ছাড়া অন্য কাউকে কল্পনা করা আমার জন্য কঠিন ছিল। আমার সেই প্রিয় মানুষটা আমাকে না জানিয়ে ফ্যামিলির সিদ্ধান্তে অন্য কাউকে বিয়ে করে নিয়েছিল। সে হয়ত আমাকে চাই নি বা ভয়ে ফ্যামিলিকে বলতে পারে নি, তবে এটুকু বলতে পারি, আমার ভালবাসায় কোন ঘাটতি ছিল না। সে যদি বিয়ের আগে আমাকে জানাতো কিংবা আমার কাছে চলে আসতো, তাহলে একটা সমাধান হত। যাহোক, ঐ ঘটনার পর আমার জীবনটা বেশ এলোমেলো হয়ে যায়। তবে আমি সবার সামনে সুস্থ স্বাভাবিক থাকার অভিনয় করি, কিন্তু আমার ভেতরটা হাহাকার করে, রাতবিরাতে চোখের কোণে অশ্রু ঝরে। আসলে কারো মায়ায় পড়লে বোঝা যায়, তাকে ছাড়া আমরা কতটা অসহায়। যাক, সে কষ্টের গল্প অন্য কোন দিন হবে।
.
সদ্য মাতৃবিয়োগে আমার অন্ধকার পৃথিবীতে বিয়ের আলো গায়ে মাখতে ইচ্ছে করে নি। কোলবালিশটা মাঝখানে রেখে চুপটি করে আমিও পাশ ফিরে শুয়ে পড়লাম। রুমে পিনপতন নিরবতা, দুপাশে দুজন সজাগ, কিন্তু কোন কথা নেই। অথচ, কত কথা বলার ছিল, একসময় এই দিনটা কত শত ভাবতাম। সময়ের সাথে সবকিছু মিলিয়ে গেল।
.
বয়সের বিষে তখন আমি উন্মক্ত যুবক। কিন্তু বাস্তবতার খোলসে এক হৃদয়ভাঙা প্রেমিক। বহুল প্রতীক্ষিত বাসর রাতে কি করতে হবে তা আমার অজানা নয়। কিন্তু অজানা এক ভদ্রতা খাটের অপর পাশে ভয়ে কুঁচকে যাওয়া মেয়েটির দিকে অগ্রসর হতে আমাকে বাঁধা দিচ্ছিলো। কোলবালিশের প্রাচীর যেন পাহাড় সমান, আমার আর ডিঙ্গানো হয় নি।
কাকে বিয়ে করছি, তাকে দেখতে কেমন, তার চরিত্র কেমন, তার পরিবার কেমন, তার চাওয়া পাওয়া, কোন কিছুই জানার আগ্রহ ছিল না।
.
যে মেয়েটির সাথে আমাকে সারাজীবন একসাথে কাটাতে হবে, তাহার মুখটা তখনও আমার দেখা হয় নি। লজ্জা কিংবা ভদ্রতার খাতিরে তাহার মুখপানে চাওয়া হয় নি। সন্ধ্যারাতে নাস্তা দেওয়ার সময় এক নজর দেখার বৃথা চেষ্টা করছিলাম, ততক্ষণে সবার পছন্দ হয়ে গিয়েছিল। আমি বেঁকে বসতে পারি, তাই তারা আমার মতামত নেয়ার প্রয়োজনটুকু বোধ না করে নি।
.
কিছু সময় বাদে অপর পাশ ঘুমের আওয়াজ আসতে লাগলো, আমি লাইটটা নিভিয়ে শুয়ে পড়লাম। ঘুমানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু মাথায় এলোমেলো অনেক চিন্তা ঘুরছে। রাত বেশ গড়িয়েছে। মা থাকলে আজ সবচেয়ে বেশি খুঁশি হত, এসব ভাবতে ভাবতে চোখের কোণে কিঞ্চিৎ অশ্রুবিন্দু জমা হল....
.
পরদিন সকালে, যখন ঘুম ভাঙে তখন দেখি বিছানার অপর পাশটা ফাঁকা। চোখ খুলে আমার অদেখা মানুষটাকে দেখবো সেই সুযোগটাও হলো না। কাঁথা মুড়িয়ে ঘুমের ভান ধরে শুয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর কারো পদধ্বনি রুমে প্রবেশ করলো। নাস্তার প্লেটটা টেবিলে রেখে বললো, খেয়ে নেন। তারপর পরপরই রুম থেকে প্রস্থান করলো। আলসেমি কাটানোর জন্য বিছানায় মোচড়ামুচড়ি করছি, হঠাৎ একটা জিনিস আমার খেয়াল হল। আমি যার সাথে একটা রাত্রি পার করলাম, তাকেও কি জোর করে আমার কাছে পাঠানো হয়েছে। অপরিচিত একটা মেয়েকে অপরিচিত একটা ছেলের কাছে হুট করে তুলে দেয়া চরমতম অন্যায়। আমিও ভদ্রতার খাতিরে চুপচাপ অন্যায়গুলো সয়ে গেছি, কোন প্রতিবাদ করি নি। এ যুগের ছেলে হয়ে আমার চুপ থাকা উচিত হয় নি। বিয়ে নামক বেষ্টনীতে আবদ্ধ করার পূর্বে পাত্রপাত্রীর মধ্যে বোঝাপড়া হওয়াটা জরুরী।
.
মেয়েটির সাথে কয়েক দিনের ব্যবধানে আমি স্পষ্টত বুঝতে পেরেছিলাম, একজন আতঙ্কিত মানুষের রাত কিভাবে কাটে। সামান্যতম বিবেকবোধ থাকলে আতঙ্কিত একটি মানুষকে আর আতঙ্কিত করা যায় না। আমি তাকে সবকিছু বুঝে উঠার সময় দিয়েছিলাম। এভাবে এক সপ্তাহ অতিক্রান্ত হয়েছে, তবুও আমরা ফ্রি হয়ে উঠতে পারে নি। টুকটাক কথা যাই বলেছি, সে মাথা নিচু করে হ্যা কিংবা না উত্তর দিয়েছে।
আমি এটুকু বুঝে ছিলাম আমি মস্ত বড় অন্যায় করে ফেলছি। কিন্তু ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। এই অবস্থায় তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিলে, তাদের মানসম্মান বিনষ্ট হবে। এই সমাজ স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে মেনে নিতে চায় না। দোষ না করলেও সেক্ষেত্রে দোষটা মেয়েদের কাঁধে বেশি আসে।
মেয়েটিও ততদিনে এতটুকু বুঝেছিল যে আমার হাত থেকে তার পালানোর কোনো রাস্তা নেই। এরপর ধীরে ধীরে আমার পরিবারের সাথে মিশতে থাকে। বাবার খাবার, ঔষুধ সবকিছুই সময়মত এগিয়ে দিচ্ছে। আমার ছোট ভাইয়ের সাথে বেশ ভালোই বন্ধুত্ব জমে। তাহার হাতের শৈল্পিক ছোঁয়ায় ঘরবাড়ি বেশ গোছানো থাকে।
.
বিয়ে নামক বন্ধনে আবদ্ধ হলেও আমাদের মাঝে শারীরিক ও মানুষিক দুরত্ব রয়ে গেছে। কেন জানি আমি অগ্রসর হতে পারি না। তাকে সামনে নিয়ে বসা হয় না। ভাললাগা, ভালবাসার কথা হয় না। কোথাও যেন আড়ষ্টতা কাজ করে।
মেয়েটি বড্ড ঘুমকাতুরে ছিল। সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় একটু রাত হতেই সে ঘুমে এলিয়ে পড়ে। ঘুমিয়ে পড়লে স্বভাবতই শরীরের উপর তার আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকতো না। তখন সে আমার দিকে পাশ ফিরত, চিত হতো, উপুড়ও হতো। আমি ভদ্রতার বসন খুলে নির্লজ্জ হয়ে একজন অষ্টদশী কন্যার সদ্য উপচে পড়া রূপ দেখতাম। একজোড়া নির্লিপ্ত মায়াভরা আঁখি, উন্মুক্ত কপাল, নগ্ন ঠোঁটের উপত্যকা, মেঘকালো অরণ্য, চিবুক বেয়ে নেমে বহমান নদীর বুকে প্রস্ফুটিত স্তনের হাতছানি। শরীরের প্রতিটি খাঁজে যেন শিল্পীর নিখুঁত টান। এখন মেয়েটিকে আর কিশোরী বলা ঠিক মনে হয় না, বলা যায় অঘটনঘটনপটিয়সী।
এসব অতি আর্কষণীয় উন্মাদনায় আমার ভিতরের হিংস্র দানবটা বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইতো, কিন্তু আমার অতীত আমাকে পিছু টেনে ধরতো। মেয়েটিও আমার প্রতি ভয় কিংবা লজ্জায় আমার থেকে দুরে থাকতো। হয়ত সে আমার একধাপ এগিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল। এভাবে প্রতিটা রাত মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতাম। আমি কিন্তু যখনই টের পেতাম সে জেগে উঠেছে, তখনই আমি নিজেকে গুটিয়ে নিতাম। আর সেই কোল বালিশের দূরত্বে আটকে যেতাম।
.
বিয়ের তেরতম দিনে ঘটে সবচেয়ে আশ্চর্যতম ঘটনা। তের সংখ্যাটাকে যদিও আনলাকি থার্টিন বলা হয়, কিন্তু আমার কাছে স্পেশাল লাকি থার্টিন।
সেদিন আমি অপেক্ষা করছিলাম, কখন সে ঘুমাবে, কখন আমি তাকে গভীরভাবে দেখবো। কিন্তু ভাগ্য নিরাশ করলো, সে জেগে ছিল। গুটিসুটি মেরে ঘুমানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু পারছে না। বুঝতে পারলাম, তার শরীর খারাপ। কপালে হাত দিয়ে দেখবো, সেইটার সাহসও পাচ্ছি না। ভাবছিলাম, কি হতে পারে, জ্বর নাকি অন্যকিছু। তার শোয়ার ভাবভঙ্গি দেখে হঠাৎ মনে হল, এটা মেয়েলি সমস্যা হতে পারে।
আমি যতদুর জানি, এই সময়টায় মেয়েদের ভীষণ কষ্ট সহ্য করতে হয়, কারো ক্ষেত্রে মুড সুইং হয়। মেজাজ ধরে রাখতে পারে না। কপালে হাত দিবো, যদি ছ্যাঁত করে উঠে! আমার কি করা উচিত বুঝে উঠতে পারছি না,
কিন্তু কিছু তো করা উচিত।
আমি উঠে রান্নাঘর থেকে পানি গরম করে বোতলে ভরে এনে তাকে দিয়ে বললাম, এটা নাও, এটাতে হয়ত ব্যথাটা কমবে। কপালে হাত দিয়ে দেখলাম শরীর বেশ গরম। জিজ্ঞেস করলাম, জ্বরের ঔষুধ দিবো কি না?
সে বললো, লাগবে না। এমনি ঠিক হয়ে যাবে।
কিছু সময় বাদে লাইটটা নিভিয়ে শুয়ে পড়লাম। সেদিন রাতে আমার আর ঘুমানো হল না। কোলবালিশটা সরিয়ে তার কপালে হাত রেখে চেক করছিলাম জ্বর নামলো কি না। ভোররাত্রিতে সে ঘুমের ঘোরে আমাকে প্রথমবার জড়িয়ে ধরেছিল। হাল্কা পাতলা গড়নের ছোট দেহটা আমার বুকের সাথে লেপ্টে যায়। আমার চিবুকের নিচে তার মাথা, নাক বরাবর তার মেঘকালো অরণ্য, আর আমার বুকের সেই খালি অঞ্চলটা যেখানটায় গেঞ্জি গায়ে থাকলেও উদোম থাকে, সেখানে তার নাকের স্পর্শে ছড়িয়ে পড়ে গরম নিশ্বাস, তাহার শরীরের উষ্ণতা আমাকে পুড়িয়ে দেয়, আমিও আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরি।
.
আমার ঘুম ভাঙতেই দেখি, এক মায়াবতী পরী আমার বাহুডোরে ঘুমোচ্ছে। এত নিষ্পাপ মুখ এত কাছ থেকে আমি আগে কখনও দেখি নি। আচমকা আমার ঠোঁটদুটো তাহার কপাল স্পর্শ করে। সে ঘুমের গভীরতায় এতটা নিমগ্ন, আমার ঠোটের স্পর্শ হয়ত টের পায় নি। আমার ইচ্ছে করছিল, তার ঠোঁটদুটোর মাঝে ডুবে যেতে, কিন্তু তার ঘুমটা ভাঙাতে ইচ্ছে করছিল না। তার যখন ঘুম ভাঙে, আমার চোখে চোখ পড়তেই সে লজ্জায় নিজেকে গুটিয়ে নেয়। আমি এক টান দিয়ে কাছে টেনে কপালে ভালবাসার স্পর্শ একে দিই। সে আমার থেকে আরো কিছুটা দুরে সরে যায়।
আমি বিছানা থেকে উঠতে উঠতে বললাম, আপনি আরেকটু ঘুমিয়ে নেন।
আমি উঠে ফ্রেশ হয়ে, দুটো ডিম সিদ্ধ করলাম। বাথরুমে গরম পানি দিলাম। দু কাপ চা রেডি করে তাকে ডেকে বললাম, আপনার জন্য চা। একটু কষ্ট করে উঠেন, চা খেয়ে নেন। বাথরুমে গরম পানি দেয়া আছে, গোসল করে নিবেন। আমার আচরণে সে কিছুটা আশ্চর্য হলেও কিছু বলে না। মেয়েদের এক আশ্চর্যজনক ক্ষমতা আছে, এরা অনেক কঠিন পরিস্থিতি সহজেই হজম করতে পারে।
.
চা শেষ করে বিছানা থেকে উঠে সে সরাসরি আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো আর বললো, শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন। ঠিক কতমিনিট আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল, আমার খেয়াল নেই। আমি তার মাদকতায় ডুবে গিয়েছিলাম, অজানা ভুবনে হারিয়ে গিয়েছিলাম। কোন কথা নেই, একে অপরের বাহুডোরে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়েছিলাম। সেই নেশার ঘোর কাটে আমার ফোন কলে। নিরবতা ভেঙে বললাম, আর কতক্ষণ জড়িয়ে রাখবে, বাথরুমের পানি ঠান্ডা হয়ে গেল।
নিজের অজান্তেই প্রথম বার তাকে তুমি করে বললাম। সে বললো, আরেকটু জড়িয়ে ধরেন।
কপালে একটা চুমু দিলাম। সে আমার বুকে মুখ লুকালো।
ঐদিন আমি আর কলেজে যাওয়া হল না। প্রিন্সিপ্যাল স্যারকে ফোন দিয়ে ছুটি নিলাম। সারাটা দিন আমার মায়াবতীর সাথে কাটলাম। কথার ঝুড়ি নিয়ে বসছিলাম। কত শত জমানো ছিল, সবকিছু উগরে দিচ্ছিলাম...
.
এর পরের গল্পটুকু শুধু অভিমান আর অভিযোগের। প্রতিটা রাত সে আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাবে, কখনো বুকের উপর, কখনও ডান কিংবা বাম হাতের উপর। যেহেতু আমি রাতে বেশি ক্লান্ত হই সে ততটা হয়না সেই জন্য ভোরে আমার চোখে ঘুম থাকে বেশি। ফলে প্রতিদিন আমার আগে সে ঘুম থেকে জেগে উঠে। আর নিজেকে দেখতে পায় আমার বাহু মুক্ত তখনই তার কণ্ঠে জমা হয় একগাঁদা অভিযোগ।
ততক্ষণে আমি ইচ্ছায় অনিচ্ছায় আবার জড়িয়ে ধরি। ঈষৎ অভিমানে সে ঝাপটা মেরে আমার থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করে। আমি দুবাহুর বাঁধন আরও কঠিন করি...
দ্বিতীয় ইনিংস
লিখায়- বাঁধন আহমেদ

Enjoyed this article? Stay informed by joining our newsletter!

Comments

You must be logged in to post a comment.