এবার হাসপাতাল নির্মাণের জায়গা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখলেন আরিয়ান আবীর।
হাসপাতাল নির্মাণের জায়গা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন ষোল বছর বয়সী চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী আরিয়ান আবীর। আরিয়ানের লেখা চিঠিতে ফুটে উঠেছে কতশত আবেগ। দেশের অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর বুকফাটা আহাজারি। প্রধানমন্ত্রীকে বারবার অনুরোধ করেছেন তাকে সাহায্য করার জন্য। CW বাংলাকে আরিয়ান আবীর জানান, এ সমাজ আমার, এ দেশ আমার। আমার দেশের অসহায় মানুষগুলোকে নিয়ে ভাববার একান্ত দায়িত্বটিও আমার। আমি নিজেই যদি আমার দেশের অসহায় মানুষগুলোর জন্য কোন কল্যাণ বয়ে আনতে না পারি তাহলে কোন আমেরিকান ছেলে আসবেনা আমার দেশের অসহায় মানুষগুলোকে নিয়ে মাথা ঘামাতে। দিনশেষে আমার সমাজ আমার দেশ আমার দেশের অসহায়ত্বকে নিয়ে ভাবার গুরুদায়িত্বটি একান্তই আমার। আমি চাই আমার দেশের মানুষগুলোর জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে। সমাজের গৎবাঁধা পড়াশোনাতে আমরা মানুষ হচ্ছি না, আমরা ভুলে যাচ্ছি আমাদের মানুষের মনুষত্ব । আমরা ভুলে যাচ্ছি আমাদের কিছু করার প্রয়োজন অসহায় মানুষগুলোর জন্য। ওরা এই সমাজের বিশাল বিরাট একটা অংশ, ওদের জন্য কিছু করতেই হবে।
আরিয়ান আবীরের চিঠিটি ছিল অত্যন্ত সহজ সরল এবং আবেগিময়। চিঠির প্রথম অংশেই আরিয়ান আবীর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছেন খুব সুন্দর একটি সম্ভাষণ। বিনয়ের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছে অসম্ভব একটি উদাহরণ। আরিয়ানের উদাহরণটি ছিল ঠিক এরকম : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই একটু অনুরোধ করতে চাই, চলুন না কিছুক্ষণের জন্য আপনি আমি একসাথেই চোখদুটো বন্ধ করি । ফিরে যাই সেই সময়টিতে যখন ফ্রিজের পানি খেলে ঠান্ডা লাগবে এই দোহাই দিয়ে শ্রদ্ধেয় বঙ্গমাতা আপনাদের ফ্রিজটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। চলুন এবার আরোওওও একটু গভীরে যাই। ধরুন পারিবারিক এই চরম অর্থভাবে সময়টাতে যখন অর্থের জোগান দিতে ঘরের অতি প্রয়োজনীয় জিনিসটি বিক্রি করতে হচ্ছে তখন, আপনার বোন শ্রদ্ধেয় শেখ রেহেনা ব্রেন ক্যান্সার কিংবা এমন কোন দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হলেন, যার অপারেশনের জন্য স্বয়ং সরকারি হাসপাতালে তিন লক্ষ টাকা কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে তা হয়তো বা অনধিক আট থেকে দশ লক্ষ টাকা। আচ্ছা ম্যাডাম এবার আপনিই বলুন, একদিকে চরম অর্থাভাব আর অন্যদিকে এই মহাবিপদ। এই মুহূর্তে ঘরে বসে দুচোখের জল ঝরানো ছাড়া আর কীঈবা উপায় আছে? মাননীয়া! চলুন এবার আপনি আমি একসাথেই এই কল্পনা থেকে বের হই।
আচ্ছা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, একটুখানি ভাবুনতো, ঠিক সেই সময়টিতে যদি এমন কোন হাসপাতাল থাকতো, যেখানে গেলে অপারেশন থেকে শুরু করে সমস্ত সেবা একেবারেই বিনামূল্যে দেয়া হবে !! আর সেই হাসপাতাল থেকেই অপারেশন করিয়ে নিজের বোনকে বাঁচানোর অনুভূতি। বাহ্ ! কি অন্তিম সুন্দর এ পৃথিবী। মাননীয়া, আগে কখনো এমনটা আপনি ভেবেছেন কিনা জানিনা তবে, আমি খুব ভাবি সবসময়।
আরিয়ানের এই আবেগময়ী উদাহরণটি সহজেই যে কারো মন কাড়তে সক্ষম।
আরিয়ান আবির এবার চট্টগ্রামের বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।সে বয়সের তুলনায় খুব ছোট হলেও চিন্তার দিক দিয়ে যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কেউ হার মানিয়েছে। সে খুব ছোটবেলা থেকেই অসহায় মানুষগুলোর জন্য একেবারে নিবেদিতপ্রাণ । অষ্টম শ্রেণীতে থাকতেই রাস্তার অসহায় পথশিশু আর অসহায় মানুষগুলোর জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন "The Street Child Foundation ". তিনি আরোও জানান, আমি প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি আমাদের ভিশন হচ্ছে 2035 সাল। আমাদের প্রথম লক্ষ হবে রাস্তায় পড়ে থাকা যেসব অসহায় মানুষগুলোর খুব একটি অপারেশন প্রয়োজন, ছোট্ট একটি অপারেশনেই পারে যাদের জীবনকে আরো সুস্থ সুন্দর করতে, আগে তাদেরকে অপারেশনের মাধ্যমে সেবা করে সুস্থ করা। এরপর আমরা আন্তর্জাতিকভাবে আগে আফ্রিকার অসহায়ত্ব নিয়ে কাজ করব এবং সেখানকার মুমূর্ষ ব্যক্তিদেরকে নির্ধারণ করে সেবা শুরু করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে শুধু এতটুকু জায়গা দিয়ে সাহায্য করেন তাহলে পুরো পৃথিবী থেকে আর্থিক সহায়তা নেওয়া আমার কাছে এতোটুকুও কিছু না। বাবা চিকিৎসক খানজাহান আলী CW র সাথে জানান, প্রচলিত গৎবাঁধা শিক্ষাব্যবস্থাকে আমি কখনোই পছন্দ করিনা। আমি একজন মানুষের মতো মানুষ চাই । আমার একজন মানুষ প্রয়োজন । আমার আরিয়ান সবসময়ই সমাজের ভালো কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকে। একজন বাবা হিসেবে খুব গর্ববোধ করি, যখন দেখি পাবজি ফ্রি-ফায়ার, টিকটক কিংবা ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে সময় নষ্ট না করে ও আফ্রিকার মানুষের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা কীভাবে মেটানো যায় সেই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করে।
তার ছয় পৃষ্ঠার পুরো চিঠি জুড়েই ছিলো অসম্ভব আবেগের ছোঁয়া। কখনো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তিনি সম্বোধন করেছেন বসন্ত-কৃষ্ণচূড়া হিসেবে। কখনো সম্বোধন করেছেন গণভবনের বাগানে ফুটে থাকা এক টুকরো বোগেনভেলিয়া হিসেবে।
আরিয়ান আবীর খুব ছোটবেলা থেকেই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কঠোর সোচ্চার ছিলেন। গত বছর জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে জাতিসংঘের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও গুতেরেস কে দোষী করে কঠোর ভাষায় চিঠি লেখেন । আন্তোনিও গুতেরেস খুব গোছানোভাবে উত্তর দিয়েছিলেন সেই চিঠির। সেই প্রথম সবচেয়ে কম বয়সী বাংলাদেশী তরুণ, যাকে জাতিসংঘ এবং আন্তোনিও গুতেরেস মাত্র 16 বছর বয়সেই খুব গোছানোভাবে উত্তর দিয়েছেন। আরিয়ানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাংলাদেশকে পাল্টে দেওয়ার। প্রতিষ্ঠা করতে চান বাংলাদেশ স্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এরই মধ্যে 2038 সালে প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচনী প্রচারণার ঘোষণা দেয় সে । 2040 সালে 35 বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী পদে বসে টানা 20 বছর ক্ষমতায় থেকে 60 বছর বয়স নাগাদ জাতিসংঘের প্রেসিডেন্ট পদে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। এছাড়া আরিয়ান আসছে নভেম্বর মিশরে অনুষ্ঠিতব্য COP-27 এ বাংলাদেশ থেকে প্রথম সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে যোগদান করতে যাচ্ছে।
আরিয়ান আবির বলেন এটিই সময় সমাজের জন্য কিছু করার, অসহায় মানুষগুলোর জন্য কিছু করার। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি হাসপাতাল হবেই। এ পর্যন্ত সে প্রধানমন্ত্রীকে দুটো চিঠি পাঠিয়েছে। এরমধ্যে একটি চিঠি পাঠিয়েছে বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে। এই হাসপাতালের জন্য আরিয়ান দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করার পাশাপাশি দেশের সকল পর্যায়ের সামাজিক সরকারি বেসরকারি সকল মানবিক সংগঠনকে এক হবার আহ্বান জানিয়েছেন।
Great
You must be logged in to post a comment.